WBBSE Class: 7

Follow Us @interactive_physics

Friday, October 19, 2018

Foundation Series, Atom and Molecule, Class: VII, Part: 5

October 19, 2018 0 Comments
বীজগনিতের সাহায্যে রাসায়নিক সমীকরণকে সমতাবিধান করা:
রাসায়নিক সমীকরনের তীরচিহ্নের উভয় পার্শ্বে পরমাণুর সংখ্যা সমান হবেই - এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে বীজগনিতের সমীকরণ গঠন করে সমাধান করে সমতা বিধান করা হয়। এই পদ্ধতি একটু সময়সাপেক্ষ কিন্তু নির্ভূল ও সফল হবেই। যেমন,
প্রথম উদাহরণ:
\(P + {O_2} \to {P_2}{O_5}\)
এবার বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির প্রতিটি অণুতে আলাদা আলাদা সহগ গুণ করে পাই।
\(a.P + b.{O_2} \to c.{P_2}{O_5}\)
যেহেতু বিক্রিয়াটির উভয়পাশে পরমাণুর সংখ্যা সমান হবেই, তাই প্রতিটি পরমাণুর জন্যে লেখা যায়,
\(P\) পরমাণুর জন্যে লেখা যায়: \(a = 2c\)
\(O\) পরমাণুর জন্যে লেখা যায়: \(2b = 5c\)
এবার উপরের দুটি সমীকরনে এই \(a\), \(b\) ও \(c\) সহগগুলি কতবার করে আছে সেটা দেখি:
\(a \to 1\) \(1\) বার
\(b \to 1\) \(1\) বার এবং
\(c \to 2\) \(2\) বার
এখন সহগগুলির মান খুব সহজে বের করার জন্য যে সহগটি সবথেকে বেশীবার আছে তার মান \(1\) ধরতে হবে। তাহলে এখানে
\(c = 1\)
\(a = 2 \times 1 = 2\) এবং
\(2b = 5 \times 1 = 5\)
বা, \(b = \frac{5}{2}\)

সুতরাং এখানে,

\(a = 2\), \(b = \frac{5}{2}\), \(c = 1\)


সহগগুলি রাসায়নিক সমীকরণে বসিয়ে পাই,
\(2P + \frac{5}{2}{O_2} = {P_2}{O_5}\)
সমস্ত সহগগুলিকে পূর্ণসংখ্যায় রূপান্তরিত করে পাই
\(4P + 5{O_2} = 2{P_2}{O_5}\)

দ্বিতীয় উদাহরণ:
\(S + {H_2}S{O_4} \to S{O_2} + {H_2}O\)

এবার বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির প্রতিটি অণুতে আলাদা আলাদা সহগ গুণ করে পাই।
\(a.S + b.{H_2}S{O_4} \to c.S{O_2} + d.{H_2}O\)
যেহেতু রাসায়নিক বিক্রিয়াটির উভয়পাশে পারমাণুর সংখ্যা সমান হবেই, তাই প্রতিটি পরমাণুর জন্য লেখা যায়,
\(S\) পরমাণুর জন্য লেখা যায়: \(a + b = c\)
\(H\) পরমাণুর জন্য লেখা যায়: \(2b = 2d\) বা \(b = d\)
\(O\) পরমাণুর জন্য লেখা যায়: \(4b = 2c + d\)

এবার উপরের সমীকরণগুলিতে \(a\), \(b\), \(c\) এবং \(d\) সহগগুলি কতবার করে আছে সেটা দেখি।
\(a \to 1\) বার
\(b \to 3\) বার
\(c \to 2\) বার
\(d \to 2\) বার

এখন সহগগুলির মান খুব সহজে বের করার জন্য যে সহগটি বেশীবার আছে তার মান \(1\) ধরতে হবে। তাহলে এখানে \(b = 1\)
সুতরাং
\(b = 1\)
\(a + 1 = c\)
\(d = 1\)
\(4 = 2c + 1\)
বা, \(2c = 3\)
বা, \(c = \frac{3}{2}\)
এবং \(a + 1 = \frac{3}{2}\)
বা, \(a = \frac{3}{2} - 1\)
বা, \(a = \frac{1}{2}\)

সুতরাং এখানে

\(a = \frac{1}{2}\), \(b = 1\), \(c = \frac{3}{2}\), \(d = 1\)


সহগগুলি রাসায়নিক সমীকরণে বসিয়ে পাই,
\(\frac{1}{2}S + {H_2}S{O_4} = \frac{3}{2}S{O_2} + {H_2}O\)
এখন সমস্ত সহগগুলিকে পূর্নসংখ্যায় পরিণত করার জন্য সমীকরণের উভয়পাশে \(2\) দিয়ে গুণ করে পাই।
\(S + 2{H_2}S{O_4} = 3S{O_2} + 2{H_2}O\)

তৃতীয় উদাহরণ:
\(C + HN{O_3} \to N{O_2} + C{O_2} + {H_2}O\)
এবার বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির প্রতিটি অণুতে আলাদা আলাদা সহগ গুন করে পাই,
\(a.C + b.HN{O_3} \to c.N{O_2} + d.C{O_2} + e.{H_2}O\)
যেহেতু বিক্রিয়াটির উভয়পাশে পরমাণুর সংখ্যা সমান, তাই লেখা যায়,

\(C\) পরমাণুর জন্য: \(a = d\)
\(H\) পরমাণুর জন্য: \(b = 2e\)
\(N\) পরমাণুর জন্য: \(b = c\)
\(O\) পরমাণুর জন্য: \(3b = 2c + 2d + e\)

এবার উপরের সমীকরণগুলিতে \(a\), \(b\), \(c\), \(d\) এবং \(e\) সহগগুলি কতবার করে আছে সেটা দেখি:
\(a \to 1\)
\(b \to 3\)
\(c \to 2\)
\(d \to 2\)
\(e \to 2\)
এখন সহগগুলির মান সহজে নির্ণয় করার জন্য যে সহগটি বেশীবার আছে তার মান \(1\) ধরতে হবে। তাহলে এখানে, \(b = 1\)
সুতরাং,
\(b = 1\)
\(a = d\)
\(1 = 2e\)
বা, \(e = \frac{1}{2}\)
\(1 = c\)
বা, \(c = 1\)
\(3 = 2 + 2d + \frac{1}{2}\)
বা, \(2d = 3 - \frac{5}{2}\)
বা, \(d = \frac{1}{4}\)
এবং \(a = d = \frac{1}{4}\)

সুতরাং এখানে,

\(a = \frac{1}{4}\), \(b = 1\), \(c = 1\), \(d = \frac{1}{4}\), \(e = \frac{1}{2}\)

সহগগুলি রাসায়নিক সমীকরণে বসিয়ে পাই,
\(\frac{1}{4}C + HN{O_3} = N{O_2} + \frac{1}{4}C{O_2} + \frac{1}{2}{H_2}O\)
সমস্ত সহগগুলিকে পূর্ণসংখ্যায় পরিণত করার জন্য সমীকরণের উভয়পাশে \(4\) দিয়ে গুণ করে পাই,
\(C + 4HN{O_3} = 4N{O_2} + C{O_2} + 2{H_2}O\)

চতুর্থ উদাহরণ:

\(N{H_3} + C{l_2} \to N{H_4}Cl + {N_2}\)
এবার বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির প্রতিটি অণুতে আলাদা আলাদা সহগ গুন করে পাই,
\(a.N{H_3} + b.C{l_2} \to c.N{H_4}Cl + d.{N_2}\)
যেহেতু বিক্রিয়াটির উভয়পাশে পরমাণুর সংখ্যা সমান তাই লেখা যায়,
\(N\) পরমাণুর জন্য: \(a = c + 2d\)
\(H\) পরমাণুর জন্য: \(3a = 4c\)
\(Cl\) পরমাণুর জন্য: \(2b = c\)

এবার উপরের সমীকরণগুলিতে \(a\), \(b\), \(c\) ও \(d\) সহগগুলি কতবার করে আছে সেটা দেখি:
\(a \to 2\)
\(b \to 1\)
\(c \to 3\)
\(d \to 1\)
এখন সহগগুলির মান খুব সহজে নির্ণয় করার জন্য যে সহগটি বেশীবার আছে তার মান \(1\) ধরতে হবে। তাহলে এখানে, \(c = 1\)
\(c = 1\)
\(a = 1 + 2d\)
\(3a = 4\) বা, \(a = \frac{4}{3}\)
\(2b = 1\) বা, \(b = \frac{1}{2}\)
এবং \(\frac{4}{3} = 1 + 2d\) বা, \(2d = \frac{4}{3} - 1\) বা, \(d = \frac{1}{6}\)

সুতরাং এখানে,

\(a = \frac{4}{3}\), \(b = \frac{1}{2}\), \(c = 1\), \(d = \frac{1}{6}\)

সহগগুলি রাসায়নিক সমীকরণে বসিয়ে পাই,

\(\frac{4}{3}N{H_3} + \frac{1}{2}C{l_2} = N{H_4}Cl + \frac{1}{6}{N_2}\)
সমস্ত সহগগুলিকে পূর্ণসংখ্যায় পরিণত করার জন্য সমীকরণের উভয়পাশে প্রতিটি অণুকে \(6\) দিয়ে গুণ করে পাই,
\(8N{H_3} + 3C{l_2} = 6N{H_4}Cl + {N_2}\)

পঞ্চম উদাহরণ:

\(Pb{\left( {N{O_3}} \right)_2} \to PbO + N{O_2} + {O_2}\)
এবার বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির প্রতিটি অণুতে আলাদা আলাদা সহগ গুন করে পাই,
\(a.Pb{\left( {N{O_3}} \right)_2} \to b.PbO + c.N{O_2} + d.{O_2}\)
যেহেতু বিক্রিয়াটির উভয়পাশে পরমাণুর সংখ্যা সমান তাই লেখা যায়,
\(Pb\) পরমাণুর জন্য: \(a = b\)
\(N\) পরমাণুর জন্য: \(2a = c\)
\(O\) পরমাণুর জন্য: \(6a = b + 2c + 2d\)

এবার উপরের সমীকরণগুলিকে \(a\), \(b\), \(c\) এবং \(d\) সহগগুলি কতবার করে আছে সেটা দেখি:
\(a \to 3\) বার
\(b \to 2\) বার
\(c \to 2\) বার
\(d \to 1\) বার

এখন সহগগুলির মান খুব সহজে নির্ণয় করার জন্য যে সহগটি বেশীবার আছে সেটিকে \(1\) ধরতে হবে।
সুতরাং এখানে,
\(a = 1\) এবং
\(b = 1\)
\(2 = c\) বা \(c = 2\) এবং
\(6 = 1 + 4 + 2d\)
বা, \(2d = 1\)
বা, \(d = \frac{1}{2}\)

সুতরাং এখানে,

\(a = 1\), \(b = 1\), \(c = 2\), \(d = \frac{1}{2}\)


সহগগুলি রাসায়নিক সমীকরণে বসিয়ে পাই,
\(Pb{\left( {N{O_3}} \right)_2} = PbO + 2N{O_2} + \frac{1}{2}{O_2}\)
এখন সমস্ত সহগগুলিকে পূর্ণসংখ্যায় পরিণত করার জন্য সমীকরণের উভয়পাশে প্রতিটি অণুকে \(2\) দ্বারা গুণ করে পাই।
\(2Pb{\left( {N{O_3}} \right)_2} = 2PbO + 4N{O_2} + {O_2}\)



কয়েকটি রাসায়নিক সমীকরণ নিম্নে দেওয়া হল (সমতাবিধান করো):

\(1\) \(Cu + {H_2}S{O_4} \to CuS{O_4} + S{O_2} + {H_2}O\)

\(2\) \(Mg + C{O_2} \to MgO + C\)

\(3\) \(CaC{O_3} + HCl \to CaC{l_2} + C{O_2} + {H_2}O\)

\(4\) \(N{H_3} + C{l_2} \to N{H_4}Cl + {N_2}\)

\(5\) \(N{H_3} + C{l_2} \to NC{l_3} + HCl\)

\(6\) \({H_2}O + {F_2} \to HF + {O_2}\)

\(7\) \({H_2}O + {F_2} \to HF + {O_3}\)

\(8\) \(HI{O_3} + HI \to {H_2}O + {I_2}\)

\(9\) \(N{H_3} + {O_2} \to {N_2} + {H_2}O\)

\(10\) \(Mg + {N_2} \to M{g_3}{N_2}\)

\(11\) \(Al + {O_2} \to A{l_2}{O_3}\)

\(12\) \(KN{O_3} \to KN{O_2} + {O_2}\)

\(13\) \(Fe + {H_2}O \to F{e_2}{O_3} + {H_2}\)

\(14\) \({C_2}{H_2} + {O_2} \to C{O_2} + {H_2}O\)

\(15\) \({C_2}{H_6} + {O_2} \to C{O_2} + {H_2}O\)

\(16\) \(S{O_2} + {O_2} \to S{O_3}\)

\(17\) \(KI + C{l_2} \to KCl + {I_2}\)

\(18\) \(HgO \to Hg + {O_2}\)

\(19\) \(NO + {O_2} \to N{O_3}\)

\(20\) \({N_2} + {H_2} \to N{H_3}\)

\(21\) \(Mg + {O_2} \to MgO\)

\(22\) \({H_2} + C{l_2} \to HCl\)

\(23\) \(KCl{O_3} \to KCl + {O_2}\)

\(24\) \(AgCl \to Ag + C{l_2}\)

\(25\) \(CaC{O_3} \to CaO + C{O_2}\)

\(26\) \(Fe + {H_2}O \to F{e_3}{O_4} + {H_2}\)

\(27\) \({P_4} + {O_2} \to {P_2}{O_5}\)

\(28\) \(N{H_3} + {O_2} \to NO + {H_2}O\)

\(29\) \(C + HN{O_3} \to C{O_2} + N{O_2} + {H_2}O\)

\(30\) \(CuO + N{H_3} \to Cu + {N_2} + {H_2}O\)

\(31\) \(Zn + HN{O_3} \to Zn{\left( {N{O_3}} \right)_2} + N{O_2} + {H_2}O\)

\(32\) \(Cu + HN{O_3} \to Cu{\left( {N{O_3}} \right)_2} + NO + {H_2}O\)

\(33\) \(Na + {H_2}O \to NaOH + {H_2}\)

\(34\) \(S + {H_2}S{O_4} \to S{O_2} + {H_2}O\)

\(35\) \(HN{O_3} \to {H_2}O + NO + {O_2}\)

\(36\) \({H_2}{O_2} + PbS \to PbS{O_4} + {H_2}O\)

\(37\) \({\left( {N{H_4}} \right)_2}C{r_2}{O_7} \to C{r_2}{O_3} + {N_2} + {H_2}O\)

\(38\) \(Al + NaOH + {H_2}O \to NaAl{O_2} + {H_2}\)

\(39\) \(BaC{l_2} + {H_2}S{O_4} \to BaS{O_4} + HCl\)

\(40\) \(C{l_2} + NaOH \to NaCl + NaOCl + {H_2}O\)

\(41\) \(FeC{l_3} + N{H_4}OH \to Fe{\left( {OH} \right)_3} + N{H_4}Cl\)

\(42\) \(HN{O_3} + {H_2}S \to NO + S + {H_2}O\)

\(43\) \(FeC{l_3} + SnC{l_2} \to FeC{l_2} + SnC{l_4}\)

\(44\) \(Mn{O_2} + HCl \to MnC{l_2} + C{l_2} + {H_2}O\)

Thursday, October 18, 2018

Foundation Series, Atom and Molecule, Class: VII, Part: 4

October 18, 2018 0 Comments
রাসায়নিক বিক্রিয়া (Chemical Reaction):
যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক পদার্থের আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয়ে এক বা একাধিক সম্পূর্ণ নতুন আনবিক গঠনের পদার্থ সৃষ্টি হয় তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলা হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে একটি পদার্থ সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট অন্য একটি পদার্থে পরিণত হয়, কিন্তু পদার্থের মূল উপাদান ও পরমাণুর সংখ্যার কোনও পরিবর্তন ঘটে না।
নিম্নে কয়েকটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হল।

(1) সোডিয়াম জলের সঙ্গে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে।
(2) হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন গ্যাসের মিশ্রণকে আলোতে রাখলে গ্যাস দুটি রাসায়নিক বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস উৎপন্ন করে।
(3) পটাশিয়াম ক্লোরেটকে তাপ দিলে পটাশিয়াম ক্লোরাইড ও অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
(4) ফসফরাস ও অক্সিজেনের বিক্রিয়া করে ফসফরাস পেন্টঅক্সাইড উৎপন্ন হয়।
(5) নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন পরস্পর বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়া উৎপন্ন হয়।

বিক্রিয়ক পদার্থ (Reactants): যে পদার্থ বা পদার্থগুলি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তাদের বিক্রিয়াশীল পদার্থ বা বিকারক বা বিক্রিয়ক পদার্থ বলে।
এখানে,
(1) নং বিক্রিয়াটিতে সোডিয়াম ও জল হল বিক্রিয়ক পদার্থ
(2) নং বিক্রিয়াটিতে হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন হল বিক্রিয়ক পদার্থ
(3) নং বিক্রিয়াটিতে শুধুমাত্র পটাশিয়াম ক্লোরেট হল বিক্রিয়ক পদার্থ
(4) নং বিক্রিয়াটিতে ফসফরাস ও অক্সিজেন হল বিক্রিয়ক পদার্থ
(5) নং বিক্রিয়াটিতে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন হল বিক্রিয়ক পদার্থ

বিক্রিয়াজাত পদার্থ (Products):
রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট যে সব পদার্থ উৎপন্ন হয়, তাদের বিক্রিয়াজাত পদার্থ বলে।
এখানে,
(1) নং বিক্রিয়াটিতে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড ও হাইড্রোজেন গ্যাস হল বিক্রিয়াজাত পদার্থ
(2) নং বিক্রিয়াটিতে শুধুমাত্র হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস হল বিক্রিয়াজাত পদার্থ
(3) নং বিক্রিয়াটিতে পটাশিয়াম ক্লোরাইড ও অক্সিজেন গ্যাস হল বিক্রিয়াজাত পদার্থ
(4) নং বিক্রিয়াটিতে শুধুমাত্র ফসফরাস পেন্টঅক্সাইড হল বিক্রিয়াজাত পদার্থ
(5) নং বিক্রিয়াটিতে শুধুমাত্র অ্যামোনিয়া হল বিক্রিয়াজাত পদার্থ

নিম্নে কয়েকটি রাসায়নিক বিক্রিয়া দেওয়া হল। এই রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি থেকে এখানে নিম্নলিখিত তালিকার মতো একটি বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থের তালিকা তৈরি করো:



ক্রমিক নং রাসায়নিক বিক্রিয়া (Chemical Reaction) বিক্রিয়ক পদার্থ (Reagent) বিক্রিয়াজাত পদার্থ (Products)
\(1\) ফসফরাস + অক্সিজেন (দহন) → ফসফরাস পেন্টঅক্সাইড ফসফরাস ও অক্সিজেন ফসফরাস পেন্টঅক্সাইড
\(2\) লোহা + জলীয়বাষ্প → ফেরোসোফেরিক অক্সাইড + হাইড্রোজেন লোহা ও জলীয়বাষ্প ফেরোসোফেরিক অক্সাইড ও হাইড্রোজেন


\(3\) নাইট্রোজেন + হাইড্রোজেন (নির্দিষ্ট চাপ ও তাপমাত্রা) → অ্যামোনিয়া

\(4\) ক্যালশিয়াম কার্বনেট (তাপ) → ক্যালশিয়াম অক্সাইড + কার্বন ডাইঅক্সাইড

\(5\) সিলভার ক্লোরাইড (আলো) → সিলভার + ক্লোরিন

\(6\) পটাশিয়াম ক্লোরেট (তাপ) → পটাশিয়াম ক্লোরাইড + অক্সিজেন

\(7\) ম্যাগনেশিয়াম + অক্সিজেন (তাপ) → ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড

\(8\) নাইট্রিক অক্সাইড + অক্সিজেন (সংস্পর্শ) → নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড

\(9\) সালফার ডাইঅক্সাইড + অক্সিজেন (বিশেষ শর্তে সংস্পর্শ) → সালফার ট্রাইঅক্সাইড

\(10\) আয়রন + জলীয় বাষ্প → ফেরিক অক্সাইড + হাইড্রোজেন

\(11\) পটাশিয়াম নাইট্রেট (তাপ) → পটাশিয়াম নাইট্রাইট + অক্সিজেন

\(12\) অ্যালুমিনিয়াম + অক্সিজেন (সংস্পর্শ) → অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড

\(13\) ম্যাগনেশিয়াম + নাইট্রোজেন (দহন) → ম্যাগনেশিয়াম নাইট্রাইড

\(14\) অ্যামোনিয়া + অক্সিজেন → নাইট্রোজেন + জল

\(15\) অ্যামোনিয়া + ক্লোরিন → অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড + নাইট্রোজেন

\(16\) ক্যালশিয়াম কার্বনেট + হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (সংস্পর্শ) → ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড + কার্বন ডাইঅক্সাইড

\(17\) ম্যাগনেশিয়াম + কার্বন ডাইঅক্সাইড (দহন) → ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড + কার্বন

\(18\) কপার + সালফিউরিক অ্যাসিড → কপার সালফেট + জল + সালফার ডাইঅক্সাইড

\(19\) সোডিয়াম + জল → সোডিয়াম অক্সাইড + হাইড্রোজেন

এখানে উপরের উদাহরণে যে রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি বলা হল, তা শুধু বিক্রিয়ক পদার্থগুলি সংস্পর্শে আসামাত্র রাসায়নিক বিক্রিয়াটি সংঘটিত হয় তা কিন্তু সবসময় হয় না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিক্রিয়ক পদার্থগুলি উপযুক্ত বিভিন্ন শর্তে যেমন, চাপ, তাপ, বিদ্যুৎ ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। তা পরে আলোচনা করা হবে।

রাসায়নিক বিক্রিয়া(Chemical Reaction):
আমরা উপরের কয়েকটি উদাহরণে কয়েকটি রাসায়নিক বিক্রিয়া দেখলাম।
(1) সোডিয়াম জলের সঙ্গে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে।
(2) হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন গ্যাসের মিশ্রণকে আলোতে রাখলে গ্যাস দুটি রাসায়নিক বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস উৎপন্ন করে।
(3) পটাশিয়াম ক্লোরেটকে তাপ দিলে পটাশিয়াম ক্লোরাইড ও অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
(4) ফসফরাস ও অক্সিজেনের বিক্রিয়া করে ফসফরাস পেন্টঅক্সাইড উৎপন্ন হয়।
(5) নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন পরস্পর বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হয়।

এখন এই পরিবর্তনগুলিকে লিখিত আকারে ও সহজে প্রকাশ করার জন্য আমরা Word Equation এর সাহায্য নিয়ে লিখেছি। যেমন,
সোডিয়াম + জল → সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড + হাইড্রোজেন
হাইড্রোজেন + ক্লোরিন হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
পটাশিয়াম ক্লোরেট → পটাশিয়াম ক্লোরাইড + অক্সিজেন
ফসফরাস + অক্সিজেন → ফসফরাস পেন্টঅক্সাইড
নাইট্রোজেন + হাইড্রোজেন → অ্যামোনিয়া

এই Word Equation কে আরও অর্থপূর্ণ করার জন্য ব্যবহার করা হয় Chemical Equation বা রাসায়নিক সমীকরণ।

রাসায়নিক সমীকরণ (Chemical Equation):
কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়াকে চিহ্ন ও সংকেতের সাহায্যে বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থের পরমাণুগুলির মধ্যে সমতা বজায় রেখে সংক্ষেপে প্রকাশ করার পদ্ধতিকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে। এককথায় রাসায়নিক পরিবর্তনের সময় কার্যত যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে তারই সাংকেতিক রূপ হল রাসায়নিক সমীকরণ।

রাসায়নিক সমীকরণ লেখার নিয়ম (How you write Chemical Equation):
(1) প্রথমে বিক্রিয়া সংক্রান্ত বক্তব্যটিকে Word Equation এর আকারে লিখে নেওয়া উচিত।
(2) তারপর পরমাণু হলে চিহ্ন এবং অণু হলে সংকেতের সাহায্যে বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলিকে লেখা হয় ও বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থ বা পদার্থগুলির মাঝে তীর চিহ্ন বসানো হয়।
(3) বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলি একাধিক থাকলে, বিক্রিয়ক পদার্থের সংকেতগুলিকে “+” চিহ্ন দিয়ে এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থের সংকেতগুলিকেও “+” চিহ্ন দিয়ে লেখা হয়।
(4) বামদিকের যোগ চিহ্নগুলি কোন্ কোন্ অণুর মধ্যে বিক্রিয়া ঘটছে তা প্রকাশ করে এবং ডানদিকের যোগ চিহ্নগুলি, বিক্রিয়ার ফলে কি কি পদার্থ উৎপন্ন হল তা প্রকাশ করে।
(5) এবার বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থের মধ্যে পরমাণুর সংখ্যা সমান করার জন্য Balance (সমতাবিধান করা) করে নিতে হয়।
(6) সমতাবিধান করার পর বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির মধ্যের তীরচিহ্নটিকে উঠিয়ে “=” বসানো হলে রাসায়নিক সমীকরণটি সম্পূর্ণ হয়। তবে বর্তমান মতে এই “=” চিহ্ন ব্যবহার আর করা হয় না। কারণ এই তীর চিহ্নকেই রেখে দেওয়া হয় কারন এই তীরচিহ্নের সাহায্যে বিক্রিয়াটির অভিমুখ আমরা বুঝতে পারি। কারন বিক্রিয়াটি একমুখী হলে “→” এবং বিক্রিয়াটি উভমুখী হলে “⇄” বা “⇌” ব্যবহার করা হয়। এখানে কিন্তু ভালো করে মনে রাখা প্রয়োজন এই রাসায়নিক সমীকরণ কিন্তু বীজগনিতের সমীকরণ নয়।

উদাহরণ: \(1\)
সোডিয়াম + জল → সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড + হাইড্রোজেন
\(Na + {H_2}O \to NaOH + {H_2} \uparrow \)
\(2Na + 2{H_2}O = 2NaOH + {H_2} \uparrow \)

উদাহরণ: \(2\)
হাইড্রোজেন + ক্লোরিন → হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
\({H_2} + C{l_2} \to HCl\)
\({H_2} + C{l_2} = 2HCl \uparrow \)

উদাহরণ: \(3\)
পটাশিয়াম ক্লোরেট → পটাশিয়াম ক্লোরাইড + অক্সিজেন
\(KCl{O_3} \to KCl + {O_2} \uparrow \)
\(2KCl{O_3} = 2KCl + 3{O_2} \uparrow \)

উদাহরণ: \(4\)
ফসফরাস + অক্সিজেন → ফসফরাস পেন্টঅক্সাইড
\({P_4} + 5{O_2} \to {P_2}{O_5}\)
\({P_4} + 5{O_2} = 2{P_2}{O_5}\)

উদাহরণ: \(5\)
নাইট্রোজেন + হাইড্রোজেন → অ্যামোনিয়া
\({N_2} + {H_2} \to N{H_3}\)
\({N_2} + 3{H_2} = 2N{H_3}\)

চিহ্ন (Symbol), সংকেত (Formula) এবং রাসায়নিক সমীকরনের (Chemical Equation) তাৎপর্য: (Significance of Symbol, Formula and Chemical Equation):

চিহ্নের তাৎপর্য:
চিহ্নের দ্বারা আমরা কোনো মৌলের পরমাণুকে সংক্ষেপে প্রকাশ করি।

সংকেতের তাৎপর্য:
সংকেতের দ্বারা আমরা কোনো মৌল বা যৌগের অণুকে সংক্ষেপে প্রকাশ করি।

রাসায়নিক সমীকরণের তাৎপর্য:
রাসায়নিক সমীকরণের দ্বারা আমরা কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে প্রকাশ করি।

রাসায়নিক সমীকরণের সমতাবিধান করার প্রয়োজনীয়তা:
একটি বিক্রিয়া যতই জটিল হোক না কেন, বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া অনুধাবনের পর জানা গেছে যে (i) বিক্রিয়ক পদার্থের মোট ভর ও বিক্রিয়াজাত পদার্থের মোট ভরের সমান হয়। এটি ভরের নিত্যতা সূত্র। অর্থাৎ ভর নষ্ট বা ধ্বংস হয় না এবং নতুনভাবে সৃষ্টিও হতে পারে না। ভর সর্বদা নিত্যতা সূত্র মেনে চলে। এবং (ii) ডালটনের পরমাণুবাদ থেকে জানতে পারি যে, পরমাণু অবিভাজ্য এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর সৃষ্টি বা ধ্বংস সম্ভব নয়। তাই বামদিকের বিক্রিয়ক পদার্থগুলির পরমাণুর মোটসংখ্যা এবং ডানদিকের বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির পরমাণুর মোট সংখ্যা হবেই।
সেইজন্যই পরমাণুগুলির সংখ্যার সমতা বিধানের জন্য বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির মধ্যে অনুর সংখ্যা বাড়িয়ে উভয়পাশেই পরমাণুর সংখ্যাকে সমান করতে হয়। একেই সমতাবিধান (Balance) করা বলে।

রাসায়নিক সমীকরণের সমতাবিধান করার কৌশল:
(1) পরীক্ষা-নিরীক্ষা পদ্ধতি (Trial-error Method): বামদিকে বিক্রিয়ক ও ডানদিকে বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির অণুর সংকেত লেখা হয় এবং মাঝখানে তীরচিহ্ন বসানো হয়। এবার এই বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির সংকেতের বামপাশে উপযুক্ত পূর্ণসংখ্যা বসিয়ে বাম ও ডানদিকের পদার্থের মধ্যে পরমাণুর সংখ্যা সমান করা হয়।

(2) বীজগানিতিক সমীকরণের সাহায্যে (Using Algebraic Equation):
রাসায়নিক সমীকরণে তীরচিহ্নের উভয়পার্শ্বে পরমাণুর সংখ্যা সমান হবেই – এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে বীজগনিতের সমীকরণ গঠন করে সমাধান করে ব্যালেন্স করা হয়। এই পদ্ধতি একটু সময়সাপেক্ষ কিন্তু নির্ভূল এবং সফল হবেই।
এর পরবর্তী Part: 5 অংশে বীজগাণিতিক পদ্ধতি আলোচনা করা হল।

Tuesday, October 16, 2018

Foundation Series, বিজ্ঞান ও পরিবেশ, বিষয়: আলো (Light)

October 16, 2018 0 Comments
আলো কি? (What is Light?)
শব্দ (Sound), তাপ (Heat), তড়িৎ (Electricity) ইত্যাদি শক্তির মতো আলোও এক ধরনের শক্তি, যা আমাদের চোখে দর্শনের অনুভূতি জাগায়। আলোক শূন্য স্থানে কোনও বস্তু থাকলে তা আমরা ওই বস্তুকে দেখতে পাই না। আলোর অভাবকেই অন্ধকার বলে। আলো বস্তুটির নিজস্ব হতে পারে অথবা অন্য কোনও উৎস থেকে এসে বস্তুতে বাধা পেয়ে আমাদের চোখে বস্তুটিকে দৃশ্যমান করে তোলে। এর ফলে আমরা আলোকিত বস্তুকে দেখতে পাই। আবার অন্ধকার ঘরের কোনও ছিদ্রপথ দিয়ে আলো ঘরে প্রবেশ করলে আলোক-পথে ভাসমান ধূলিকণাগুলি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। ফলে আলোকপথটি আমাদের চোখে পড়ে। কিন্তু ঘরের বায়ু ধূলিকণামুক্ত হলে আলোর গতিপথটিকে দেখা যায় না। অর্থাৎ আলো নিজে অদৃশ্য থেকে অন্য বস্তুকে দৃশ্যমান করে তোলে।

আলো এক ধরণের শক্তি – তার স্বপক্ষে প্রমাণ (Light is a Kind of Energy):
আলো একরকমের শক্তি, যা শক্তির নিত্যতা সূত্র মেনে চলে। আলোক শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে আবার অন্য কোনও শক্তিও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে। যেমন:
(i) কাঠ, কয়লা, বিভিন্ন রকমের খনিজ তেলকে বায়ুতে পোড়ালে ওই সব পদার্থে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি তাপ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
(ii) বৈদ্যুতিক বাতিতে সরু তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে বাতিটি জ্বলে ওঠে এবং আলো ও তাপ বিকিরণ করে। এখানে তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
(iii) শান দেওয়ার সময় ঘুরন্ত চাকায় ঝুরি, কাঁচি ইত্যাদি যন্ত্রকে চেপে ধরলে আলোর স্ফুলিঙ্গ বেরোতে দেখা যায়। এখানে যান্ত্রিক শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
(iii) ফটো-ইলেকট্রিক কোশে আলো পড়লে বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। এই পরিবর্তনে আলোক শক্তি, তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
এর দ্বারা বলা যায়, শব্দ, তাপ, তড়িৎ এর মতোই আলোও একপ্রকার শক্তি।

আলো কাকে বলে?
আলো একপ্রকার শক্তি যা তরঙ্গের আকারে বিস্তারলাভ করে এবং আমাদের দর্শন ইন্দ্রিয়ে এক বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি করে এবং আলো নিজে অদৃশ্য থেকে বাহ্যিক সকল বস্তুকে দৃশ্যমান করে।

আলোর বৈশিষ্ট্য:
(i) আলো এক প্রকার শক্তি যা নিজে দৃশ্যমান হয় না কিন্তু দর্শনে সাহায্য করে।
(ii) আলো তরঙ্গের আকারে বিস্তারলাভ করে।
(iii) আলোর চলার পথ সর্বদা সরলরৈখিক হয়।
(iv) আলোর জন্য বিভিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে যেমন প্রতিফলন, প্রতিসরণ ইত্যাদি।
(v) আলোর দ্বৈত সত্ত্বা আছে, অর্থাৎ আলোর কণা ধর্ম ও তরঙ্গ ধর্ম আছে।


আলোক উৎস বা আলোকপ্রভব (Source of Light) কী?
যে সকল বস্তু থেকে আলো বিকিরণ করে, তাদের আলোক উৎস বা আলোক প্রভব বলে।
এদের মধ্যে সূর্য, নক্ষত্র ইত্যাদি হলো আলোর স্বাভাবিক উৎস এবং জ্বলন্ত কাঠ, কয়লা, মোমবাতি, বৈদ্যুতিক বাতি ইত্যাদি হল আলোর কৃত্রিম উৎস।

আলোক উৎস কয় প্রকার ও কী কী? আলোক উৎস দুইপ্রকার।
(i) স্বপ্রভ বা স্বয়ংপ্রভ উৎস (Luminous Source)
(ii) নিষ্প্রভ উৎস (Non-luminous Source)


স্বপ্রভ উৎস (Luminous Source):
যে সকল বস্তু নিজেই নিজের উৎস থেকে আলো বিকিরণ করে তাদের স্বপ্রভ উৎস বলে।
যেমন, পৃথিবীতে আলোর প্রধান উৎস হল সূর্য। এছাড়া নক্ষত্র, জ্বলন্ত বাতি বৈদ্যুতিক বাতি ইত্যাদি হল স্বপ্রভ বা স্বয়ংপ্রভ আলোক উৎস।

নিষ্প্রভ উৎস (Non-Luminous Source):
যে সকল বস্তুর নিজস্ব আলো নেই, যারা স্বপ্রভ বস্তুর আলোয় দৃশ্যমান হয়ে আলো বিকিরণ করে, তাদের নিষ্প্রভ বস্তু বলে।
যেমন, পৃথিবীতে অধিকাংশ বস্তুই নিষ্প্রভ বস্তু। চাঁদ, টেবিল, বই, কাঠ, মাটি, গাছপালা ইত্যাদি নিষ্প্রভ বস্তু।
স্বপ্রভ বস্তুর আলো যখনই নিষ্প্রভ বস্তুর ওপর পড়ে, তখন নিষ্প্রভ বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখনই আমরা ওই নিষ্প্রভ বস্তুগুলিকে দেখতে পাই।

কোনও বস্তুর স্বপ্রভ বা নিষ্প্রভ হওয়া ওই বস্তুটির অবস্থার উপর কখনো কখনো নির্ভর করে:
যেমন, সাধারণ উষ্ণতায় একখন্ড লোহা নিষ্প্রভ বস্তু। কিন্তু তাপ দিয়ে ওই লোহাখন্ডটিকে শেততপ্ত করলে তা শ্বেত আলো বিকিরণকারী স্বপ্রভ বস্তুতে পরিণত হয়। ঠান্ডা হলে পুনরায় নিষ্প্রভ বস্তুতে পরিণত হয়।

চাঁদকে নিষ্প্রভ বস্তু বলা হয় কেন?
চাঁদ একটি নিষ্প্রভ বস্তু। কারণ, চাঁদের নিজস্ব কোনও আলো নেই। সূর্যের আলো চাঁদের উপর পড়লে চাঁদ সেই আলো চারিদিকে বিকিরণ করে। চাঁদের ন্যায় বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি জ্যোতিষ্ক যাদের নিজস্ব কোনও আলো নেই, তারা সবাই নিষ্প্রভ বস্তু।

আলোর বিন্দু উৎস বা বিন্দু প্রভব:
কোনও আলোক উৎসকে যদি জ্যামিতিক বিন্দু হিসাবে ধরা হয়, তবে তাকে আলোর বিন্দু উৎস বলে। স্বপ্রভ বস্তুর প্রত্যেক বিন্দু থেকেই চারিদিকে আলো বিকীর্ণ হয়। কিন্তু ষলোচনার সুবিধার জন্য এই আলোক বিজ্ঞানে কোনও কোনও ক্ষেত্রে আলোর উৎসকে একটি জ্যামিতিক বিন্দু হিসাবে কল্পনা করা হয়, যাকে বিন্দু উৎস বা প্রভব বলে।
বাস্তবক্ষেত্রে বিন্দু উৎসের কোনও অস্থিত্ব নেই। বহুদূরে থাকার জন্য সূর্য ও নক্ষত্রগুলিকে বিন্দু উৎস হিসাবে কল্পনা করা হয়।

আলোর বিস্তৃত উৎস বা বিস্তৃত প্রভব:
যেকোনও আকারের আলোর উৎস অসংখ্য বিন্দু উৎসের সমন্বয়ে গঠিত বলে ধরা হয়। নির্দিষ্ট আকারযুক্ত আলোক উৎসকে আলোক বিস্তৃত উৎস বলে। দূরত্ব খুব বেশী হওয়ায় বিশাল নক্ষত্রগুলি বিন্দু উৎসের মতো, কিন্তু ছোটো মোমবাতির শিখাটি হল বিস্তৃত উৎস।

আলোক মাধ্যম কাকে বলে?
আলো যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো চলাচল করতে পারে তাকে আলোক মাধ্যম বলে (Optical Medium)।
আলোর বিস্তারের জন্য বাস্তব মাধ্যমের প্রয়োজন নাও হতে পারে। ভূ-পৃষ্ঠের বায়ুমন্ডলের উপরে যে মহাশূন্য রয়েছে তার ভিতর দিয়ে সূর্য ও নক্ষত্রের আলো অবাধ গতিতে ভূ-পৃষ্ঠে এসে পৌঁছায়।

আলোক মাধ্যম কয়প্রকার ও কী কী?

সমসত্ত্ব মাধ্যম (Homogeneous Medium):
যে মাধ্যমের ভৌত ধর্মগুলি সর্বত্র একই থাকে অর্থাৎ যে মাধ্যমে আলো সম গতিতে সবদিকে চলাচল করতে পারে তাকে সমসত্ত্ব মাধ্যম বলে।
যেমন, স্বল্প পরিসরে বায়ু, জল, কাচ ইত্যাদি হল সমসত্ত্ব মাধ্যম।

অসমসত্ত্ব মাধ্যম (Heterogeneous Medium):
যে মাধ্যমের সমস্ত অংশের ভৌত ধর্ম একই নয় অর্থাৎ যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো সম গতিতে চলাচল করতে পারে না, বিভিন্ন অংশে আলোর গতিবেগ বিভিন্ন হয়, সেই মাধ্যমকে অসমসত্ত্ব আলোক মাধ্যম বলে।
একটি অসমসত্ত্ব মাধ্যমকে একাধিক সমসত্ত্ব মাধ্যমে ভাগ করা যেতে পারে। বায়ুমন্ডল সামগ্রিকভাবে একটি অসমসত্ত্ব মাধ্যম। কারণ বায়ুমন্ডলের নীচের বায়ুস্তরের ঘনত্ব, উপরের বায়ুস্তরের ঘনত্বের তুলনায় বেশী।
যেমন, অভ্র, কোয়ার্জ ইত্যাদি

আলোক মাধ্যমের প্রকারভেদ:
আলোক মাধ্যম মুলত তিন রকমের –
(i) স্বচ্ছ মাধ্যম
(ii) ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম
(iii) অস্বচ্ছ মাধ্যম


স্বচ্ছ মাধ্যম (Transparent Medium):
যে সব মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো সহজে চলাচল করতে পারে, তাদের স্বচ্ছ মাধ্যম বলে।
যেমন, শূন্যস্থান, কাচ, বিশুদ্ব জল, বায়ু ইত্যাদি হল আলোকের স্বচ্ছ মাধ্যম। এইসব মাধ্যমে আলো অতি সামান্য পরিমাণে শোষিত হয়।

ঈষৎস্বচ্ছ মাধ্যম (Translucent Medium):
যে সব মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো আংশিকভাবে চলাচল করতে পারে, তাদের ঈষৎস্বচ্ছ মাধ্যম বলে।
যেমন, তৈলাক্ত কাগজ, ঘষাকাচ, রঙিন কাচ ইত্যাদি এই ধরণের মাধ্যম।

অস্বচ্ছ মাধ্যম (Opaque Medium):
যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো একেবারেই চলাচল করতে পারতে না, তাকে অস্বচ্ছ মাধ্যম বলে।
যেমন, ধাতু, কাঠ, পাথর, কয়লা, মাটি ইত্যাদি।

আলোকরশ্মি (Light Ray):
আলো যে পথে মাধ্যমের একবিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে যায়, সেই পথকে আলোকরশ্মি বলে।
সমসত্ত্ব মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলো সরলরেখায় যায়। এইরকম মাধ্যমে একটি আলোক রশ্মিকে তীর চিহ্ন যুক্ত একটি সরলরেখা দিয়ে সূচিত করা হয়। তীর চিহ্নের অভিমুখ আলোর গতির দিক নির্দেশ করে।

আলোকরশ্মিগুচ্ছ (Light Rays`):
কয়েকটি আলোকরশ্মি এক সঙ্গে থেকে যে গুচ্ছ গঠন করে, তাকে আলোক রশ্মিগুচ্ছ বলে। একটি আলোকরশ্মিগুচ্ছকে অসংখ্য রশ্মির সমষ্টি হিসাবে কল্পনা করা হয়।


আলোকরশ্মির প্রকারভেদ:
(i) সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ
(ii) অভিসারী আলোকরশ্মিগুচ্ছ
(iii) অপসারী আলোকরশ্মিগুচ্ছ

সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ (Parallel Rays):
আলোকরশ্মিগুচ্ছের রশ্মিগুলি যদি পরস্পর সমান্তরাল হয়, তবে ওই রশ্মিগুচ্ছকে সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ বলে।
অনেক দূর থেকে আসা কোনো আলোক উৎস থেকে আগত রশ্মিগুচ্ছকে সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ বলে ধরে নেওয়া হয়। সূর্য এবং অন্যান্য নক্ষত্র থেকে আগত রশ্মিগুচ্ছ হল সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ।


সমান্তরাল আলোক রশ্মিগুচ্ছ

অভিসারী রশ্মিগুচ্ছ (Converging Rays):
যদি কোনও আলোকরশ্মিগুচ্ছের রশ্মিগুলি আলোর গতির কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা মিলিত হতে চায়, তখন ওই রশ্মিগুচ্ছকে অভিসারী রশ্মিগুচ্ছ বলে।
উত্তল লেন্সের মাধ্যম চারিপাশের মাধ্যম অপেক্ষা বেশী ঘনতর হলে, একগুচ্ছ সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ ওই লেন্স দিয়ে প্রতিসৃত হওয়ার পর অভিসারী রশ্মিগুচ্ছে পরিণত হয়।


অভিসারী আলোক রশ্মিগুচ্ছ

অপসারী রশ্মিগুচ্ছ (Diverging Rays):
যদি কোনও আলোর আলোকরশ্মিগুলি এমন হয় যে, তারা নির্দিষ্ট কোনও বিন্দু থেকে নির্গত হয়ে রশ্মিগুলো আলোর গতির পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় তবে ওই রশ্মিগুচ্ছকে অপসারী রশ্মিগুচ্ছ বলে।
যেকোনও আলোক উৎস থেকে বিকীর্ণ আলোর রশ্মিগুলো সর্বদা অপসারী রশ্মিগুচ্ছই হয়।

অপসারী আলোক রশ্মিগুচ্ছ

আলোক রশ্মির সরলরৈখিক গতি (Rectilinear Propagation of Light):
কোনও সমসত্ত্ব স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলোক রশ্মি সর্বদা সরলরেখায় চলে। একে আলোর সরলরৈখিক গতি বলে।
আলোকরশ্মির অভিমুখের সামনে কোনও অস্বচ্ছ বস্তুকে রাখলে আলো বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ওই বস্তুর পিছনের দেওয়ালে বা পর্দায় বস্তুটির ছায়া (Shadow) দেখা যায়। নিম্নের এই পরীক্ষার সাহায্যে প্রমান করা যায় যে, আলো সরলরেখায় চলে।

কার্ডবোর্ড ও মোমবাতির পরীক্ষা:
সমতল পৃষ্ঠযুক্ত এবং সমান উচ্চতা বিশিষ্ট তিনটি কার্ডবোর্ডকে স্ট্যান্ডের সাহায্যে একটি টেবিলের উপর বসানো হল। কার্ডবোর্ড তিনটির মাঝখানে একই উচ্চতায় একটি করে সরু ফুটো করা আছে। এখন কার্ডবোর্ডের তিনটি ফুটোকে এমনভাবে রাখা হয় যাতে তারা একই সরলরেখায় চলে। এবার একটি শিখাযুক্ত মোমবাতিকে কার্ডবোর্ডগুলোর একদিকে এমনভাবে রাখা হয়, যাতে কার্ডবোর্ডের ছিদ্র তিনটি মোমবাতির শিখার সঙ্গে একই সরলরেখায় থাকে।

কার্ড বোর্ড ও মোমবাতির পরীক্ষা

পর্যবেক্ষণ:
কার্ডবোর্ডগুলোর যেদিকে মোমবাতি আছে তার বিপরীত দিক দিয়ে ছিদ্র বরাবর তাকালে শিখাটি দেখা যায়। এই অবস্থায় মাঝের কার্ডবোর্ডটিকে উপরে, নীচে বা পাশে সামান্য একটু সরালে আর শিখাটি দেখা যায় না। কারণ মোমবাতি থেকে নির্গত আলোকরশ্মিগুচ্ছ মাঝের কার্ডবোর্ড দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় আলোকরশ্মি চোখে এসে পৌঁছাতে পারেনা।

সিদ্ধান্ত:
এই পরীক্ষা থেকে সিদ্ধান্ত করা যায় যে, আলোক রশ্মি সরলরেখায় চলে।

সূচীছিদ্র ক্যামেরা (Pin-Hole Camera):
আলোর সরলরৈখিক গতি, এই ধর্মের উপর ভিত্তি করে সূচীছিদ্র ক্যামেরা তৈরি করা হয়। এর দ্বারাও প্রমানিত হয় যে আলো সরলরেখায় চলে।

গঠন:
সূচীছিদ্র ক্যামেরাটি একটি আয়তাকার কাক্স যার অভ্যন্তরভাগে আলোর প্রতিফলন বন্ধ করার জন্য কালো রং করা থাকে। বাক্সটির সামনের ঢাকনার ঠিক মাঝখানে একটি সূচীছিদ্র (Pinhole) রয়েছে। এই ঢাকনার বিপরীত তলটি একটি ঘষা কাচের পর্দা রাখা হয়, যার উপরে প্রতিচ্ছবিটি পড়বে। এখন সূচিছিদ্র ক্যামেরার ছিদ্রের সামনে একটি উজ্জ্বল আলোক উৎসকে রাখা হলে ঘষা কাচের দেওয়ালে উৎসটির উল্টো প্রতিচ্ছবি বা প্রতিকৃতি গঠিত হয়।
সূচীছিদ্র ক্যামেরা

চিত্রে AB একটি আলোক উৎস। A ও B বিন্দু থেকে আলোকরশ্মি (Light Rays) ছিদ্রের মধ্য দিয়ে সরলরৈখিক পথে এসে P ও Q বিন্দুতে আপতিত হয়েছে। A ও B বিন্দুর মধ্যবর্তী অন্যান্য বিন্দুর আলোও ক্যামেরার ছিদ্রের ভিতর দিয়ে দিয়ে P ও Q এর মধ্যবর্তী বিভিন্ন বিন্দুতে আপতিত হয়ে ওই কাচের দেওয়ালে AB শিখার উল্টো প্রতিচ্ছবি PQ গঠন করেছে। এই প্রতিচ্ছবি আলোক উৎসের মতোই হয়। ছিদ্র সরু হলে প্রতিচ্ছবিটি স্পষ্ট হয়। কিন্তু ছিদ্রটি বড় হলে প্রতিচ্ছবিটি অস্পষ্ট হবে।

ছিদ্র থেকে আলোক উৎসের দূরত্ব বাড়ালে বা কমালে প্রতিচ্ছবির আকার যথাক্রমে ছোট বা বড় হবে। এছাড়া ছিদ্র থেকে আলোক উৎসের দূরত্ব স্থির রেখে যদি ছিদ্র থেকে কম্যারার পর্দার দূরত্ব বাড়ানো হয়, তাহলে প্রতিচ্ছবির আকৃতি বাড়বে।

সিদ্ধান্ত:
আলো সরলরেখায় চলে বলেই ক্যামেরার পর্দায় আলোক উৎসটির উল্টো প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। এছাড়া ছিদ্র থেকে পর্দার দূরত্ব বাড়ালে প্রতিচ্ছবির আকৃতিও সেই অনুপাতে বাড়ে – এটি আলোর সরলরৈখিক গতির প্রমান করে। কারণ আলো বক্রপথে চললে ঐ অনুপাত নির্দিষ্ট থাকত না।

প্রতিচ্ছবি বা প্রতিকৃতি:
কোনও আলোক উৎসের আলো একটি সরু ছিদ্রের মধ্য দিয়ে গিয়ে কোনও পর্দার ওপর পড়লে, পর্দায় আলোকিত অংশের আকৃতি বা গঠন, আলোক উৎসের মতো হয়। একে আলোক-উৎসটির প্রতিচ্ছবি বা প্রতিকৃতি বলে। এই পদ্ধতিতেই সূচীছিদ্র ক্যামেরার সাহায্যে একটি বাতির শিখার প্রতিচ্ছবি গঠিত হয়।

সূচীছিদ্র ক্যামেরায় গঠিত প্রতিকৃতির বৈশিষ্ট্য:
(i) সূচীছিদ্র ক্যামেরায় বস্তুর প্রতিকৃতি উল্টো হয়।
(ii) বাক্সের দৈর্ঘ্য ঠিক রেখে ছিদ্র থেকে বস্তুকে দূরে সরালে প্রতিকৃতির আকার ছোটো হবে এবং বস্তুটিকে ছিদ্রের কাছে আনলে প্রতিকৃতির আকার বড়ো হবে।
(iii) বস্তু দূরত্ব ঠিক রেখে ক্যামেরার দৈর্ঘ্য বাড়ালে প্রতিকৃতির আকার বড় হবে এবং ক্যামেরার দৈর্ঘ্য কমালে প্রতিকৃতির আকার ছোটো হবে।
(iv) ক্যামেরার ছিদ্র বড় হলে প্রতিকৃতি অস্পষ্ট হবে। কারণ একটি বড় ছিদ্র অনেকগুলি ছোটো ছোটো ছিদ্রের সমষ্টি হিসাবে ধরা হয়। প্রতিটি ছোটো ছিদ্রই পর্দার ওপর একটি করে প্রতিকৃতি তৈরী করবে। এই প্রতিকৃতিগুলি একে অপরের উপর পড়ে প্রতিকৃতি অস্পষ্ট করে দেবে।

সূচীছিদ্র ক্যামেরায় বস্তুর যে প্রতিকৃতি তৈরি হয়, তাকে প্রতিবিম্ব বলা হয় না কেন?
কোনও উৎস থেকে আগত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হয়ে কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হলেই প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। কিন্তু সূচীছিদ্র ক্যামেরায় প্রতিকৃতি উৎপন্ন হওয়ার সময় আলোকরশ্মির প্রতিফলন বা প্রতিসরণ হয় না। এই জন্যে সূচীছিদ্র ক্যামেরায় গঠিত প্রতিকৃতিকে প্রতিবিম্ব বলা যায় না।

সূচীছিদ্র ক্যামেরার মডেল ও Java Simulation দেখতে ফাইলটি ডাউনলোড করো


ছায়া (Shadow):
কোনও আলোক উৎসের সামনে কোনো অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে, ওই বস্তুটির পেছনে যে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানের সৃষ্টি হয়, তাকে ওই অস্বচ্ছ বস্তুর ছায়া বলে।

ছায়ার আকৃতি ও প্রকৃতি কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
কোনো আলোক উৎসের সামনে একটি অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে যে ছায়ার সৃষ্টি হয় তার আকৃতি ও প্রকৃতি কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন:
(1) আলোর উৎস
(2) অস্বচ্ছ বস্তুর আকার
(3) আলোক উৎস থেকে অস্বচ্ছ বস্তুর দূরত্ব
(4) অস্বচ্ছ বস্তু থেকে পর্দার দূরত্ব

এই ছায়ার আকৃতি ও প্রকৃতি কেমন হবে তার কতকগুলি নিয়ম নীচে দেওয়া হল –
(i) পর্দায় সৃষ্ট ছায়াটির আকার, বস্তুর আকারের মতোই হয়।
(ii) পর্দাকে অস্বচ্ছ বস্তুর কাছে আনলে, ছায়াটির আকার ছোটো হয়ে যায়।
(iii) পর্দাকে অস্বচ্ছ বস্তুর কাছ থেকে দূরে সরালে, ছায়াটির আকার ক্রমশ বড়ো হতে থাকে।
(iv) পর্দা ও আলোক উৎস স্থির রেখে, অস্বচ্ছ বস্তুটিকে পর্দার কাছে আনলে ছায়া ছোটো হয়ে যায় এবং পর্দা থেকে দূরে সরিয়ে উৎসের দিকে নিয়ে গেলে ছায়াটি বড়ো হয়।
(v) বস্তু ও পর্দাকে স্থির রেখে আলোক উৎসকে বস্তুর কাছে আনলে উৎপন্ন ছায়া বড়ো হবে এবং উৎসকে দূরে সরিয়ে নিলে ছায়া ছোটো হবে।

প্রচ্ছায়া (Umbra):
কোনো আলোক উৎসের সামনে অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে যে ছায়া উৎপন্ন হয় তা নির্ভর করে আলোর উৎস, পর্দার দূরত্বের ওপর। এখন অস্বচ্ছ বস্তুর পিছনে একটি পর্দা রাখলে, আলোক উৎস যদি খুব ক্ষুদ্র আকারের অর্থাৎ বিন্দু উৎস হয় তাহলে ওই অস্বচ্ছ বস্তুর পিছনে পর্দায় যে ছায়া পড়ে তা গাঢ় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। এই ঘন কালো অঞ্চলের ছায়াকে প্রচ্ছায়া বলে। প্রচ্ছায়া অঞ্চল থেকে আলোক উৎসকে দেখা যায় না।

ছায়া ও প্রচ্ছায়া

উপচ্ছায়া (Penumbra):
কোনো আলোক উৎসের সামনে অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে যে ছায়া উৎপন্ন হয় তা নির্ভর করে আলোর উৎস, পর্দার দূরত্বের ওপর। এখন অস্বচ্ছ বস্তুর পিছনে একটি পর্দা রাখলে, আলোক উৎস যদি বিস্তৃত বা বড়ো আকারের হয় তখন এই প্রচ্ছায়া বা গাঢ় অন্ধকার অংশের চারিপাশে অপেক্ষাকৃত কম অন্ধকারাচ্ছন্ন অঞ্চলের সৃষ্টি হয়। একে উপচ্ছায়া বলে। বিন্দু আলোক উৎসের ক্ষেত্রে প্রচ্ছায়া এবং উপচ্ছায়া একই হয়। এই উপচ্ছায়া অঞ্চল থেকে আলোক উৎসের কিছু অংশ দেখা যায়।

ছায়া, প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া

প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া সংক্রান্ত কিছু তথ্য:
(i) উপচ্ছায়া সাধারণত বিস্তৃত আলোক উৎসের ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়।
(ii) বিন্দু আলোক উৎসের ক্ষেত্রে প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া একই হয়।
(iii) বস্তু ও পর্দার মধ্যে ব্যবধান কমতে থাকলে প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়ার ব্যবধানও কমতে থাকে।
(iv) বস্তু ও পর্দার মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকলে প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়ার ব্যবধানও বাড়তে থাকে।
(v) বিন্দু উৎস ও বস্তুর মধ্যে দূরত্ব কমালে ছায়া বড়ো হতে থাকে।
(vi) বিন্দু উৎস ও বস্তুর মধ্যে দূরত্ব বাড়ালে ছায়া ছোটো হতে থাকে।
(vii) আলো সরলরেখায় গমন করে বলেই ছায়া গঠিত হয়।
(viii) উপচ্ছায়া কেবলমাত্র বিস্তৃত আলোক উৎসের ক্ষেত্রেই গঠিত হয়। আসলে, উপচ্ছায়া অংশে আলোক উৎসের কিছু অংশ থেকে আলো প্রবেশ করার সুযোগ পায়। তাই সেখানে অন্ধকার গাঢ় হতে পারে না।

বিন্দু আলোক উৎসের সামনে অস্বচ্ছ গোলাকার বস্তু রাখলে কিভাবে ছায়ার বা প্রচ্ছায়ার সৃষ্টি হয় – ব্যাখ্যা করো:
চিত্রে O একটি বিন্দু আলোক উৎস এবং AB একটি অস্বচ্ছ গোলাকার বস্তু। বস্তুটি থেকে কিছু দূরে XY পর্দা রাখা আছে। উৎস O থেকে OA এবং OB রশ্মি AB বস্তুর ধার ঘেঁসে OAC এবং OBD পথে গিয়ে পর্দায় পড়েছে। AB অস্বচ্ছ বস্তুতে বাধা পেয়ে AOB ফানেল আকৃতি অংশের কোনো আলোক রশ্মিই পর্দায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে পর্দার CD অংশটি আলো না পেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকে যায়। এই অংশটি হল AB বস্তুর ছায়া, একেই প্রচ্ছায়া বলে।

বিন্দু উৎসের জন্য গঠিত প্রচ্ছায়া

উপচ্ছায়া (Penumbra):
বিস্তৃত আলোক উৎস এবং অস্বচ্ছ গোলাকার বস্তু (উৎস থেকে বড়) দ্বারা ছায়ার সৃষ্টি ব্যাখ্যা করো:
চিত্রে AB একটি বিস্তৃত গোলাকার আলোক উৎস এবং উৎসের সামনে উৎস থেকে বড় গোলাকার অস্বচ্ছ বস্তু CD। আলোক উৎসের A বিন্দু থেকে নির্গত আলোক রশ্মি অস্বচ্ছ বস্তুতে বাধা পেয়ে পর্দার EF অংশে ছায়ার সৃষ্টি করে। আবার উৎসের B বিন্দু থেকে নির্গত আলোক রশ্মি অস্বচ্ছ বস্তুতে বাধা পেয়ে পর্দার GH অংশে ছায়ার সৃষ্টি করে।
উৎসের কোনো অংশ থেকেই পর্দার EH অংশে আলো পৌঁছায় না। তাই এই অংশে ছায়াটি খুব গাঢ় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। এই সম্পূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশকে প্রচ্ছায়া বলে।
আবার GH অংশে উৎসের উপরের দিকে এবং HF অংশে উৎসের নীচের দিক থেকে আলো এসে পর্দায় পড়ে। ফলে GE এবং HF অংশে আংশিক আলোকিত থাকে। এই আংশিক আলোকিত অংশকে উপচ্ছায়া বলে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে পর্দার মাঝখানে গোল প্রচ্ছায়া এবং তার চারিদিকে গোলাকার উপচ্ছায়ার সৃষ্টি হয়।

বিস্তৃত উৎসের জন্য গঠিত প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া


ছায়া, প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া বিষয়ে মডেল দেখতে এখানে Java Simulation ক্লিক করে ডাউনলোড করো।


আলোর প্রতিফলন (Reflection of Light):
আলোকরশ্মি কোনও সমসত্ত্ব, স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে যদি দ্বিতীয় কোনও মাধ্যমের ওপর আপতিত হয়, তখন ওই আলোক রশ্মির কিছু অংশ দ্বিতীয় মাধ্যমের তল থেকে দিক পরিবর্তন করে পুনরায় প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোক রশ্মির এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে।

সমতল দর্পণে আলোর প্রতিফলন


কয়েকটি সংজ্ঞা:
আপতিত আলোকরশ্মি (Incident Rays):
আলোক রশ্মি যে অংশ এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয়, তাকে আপতিত আলোকরশ্মি বলে।
যেমন পাশের চিত্রে AO হল আপতিত আলোকরশ্মি।

প্রতিফলিত আলোকরশ্মি (Reflected Rays):
আলোকরশ্মির যে অংশ আপতন বিন্দুতে আপতিত হয়ে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে পুনরায় প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে, তাকে প্রতিফলিত আলোকরশ্মি বলে।
যেমন, পাশের চিত্রে OB হল প্রতিফলিত আলোকরশ্মি।

আপতন বিন্দু (Point of Incident):
দুই মাধ্যমের বিভেদতলের ওপর যে বিন্দুতে আলোকরশ্মি আপতিত হয়, সেই বিন্দুকে আপতন বিন্দু বলে।
যেমন, পাশের চিত্রে O বিন্দু হল আপতন বিন্দু।

অভিলম্ব (Normal):
কোনো আলোকরশ্মি প্রতিফলক তলের উপর আপতিত হলে, আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের ওপর অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে।
যেমন, পাশের চিত্রে এখানে ON হল অভিলম্ব।

প্রতিফলক তল (Reflecting Surface):
আলোকরশ্মি যে তলের উপর আপতিত হয়ে প্রতিফলন ঘটায়, তাকে প্রতিফলক তল বলে।
এখানে PQ হল প্রতিফলক তল।

আপতন কোণ (Incident Angle):
আপতিত আলোকরশ্মি, অভিলম্বের সঙ্গে যে কোণ উৎপন্ন করে, তাকে আপতন কোন বলে।
এখানে \(\angle AON = i\) হল আপতন কোণ।

প্রতিফলন কোণ (Reflected Angle):
প্রতিফলিত আলোকরশ্মি, অভিলম্বের সঙ্গে যে কোণ উৎপন্ন করে, তাকে প্রতিফলন কোণ বলে।
এখানে \(\angle BON = r\) হল প্রতিফলন কোণ।

প্রতিফলিত আলোর পরিমাণ কোন্‌ কোন্‌ বিষয়ের নির্ভর করে?
(i) আপতিত রশ্মি যত তির্যকভাবে প্রতিফলক তলের ওপর পড়বে, আলোর প্রতিফলন তত বেশি হবে।
(ii) আলোর প্রতিফলন, প্রতিফলকের প্রকৃতি ও মাধ্যমের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে।
যেমন, বায়ু থেকে আলোক এসে আয়নায় আপতিত হলে, যে পরিমাণ আলোর প্রতিফলন ঘটে, তা বায়ু থেকে জলে আপতিত হলে অপেক্ষাকৃত কম প্রতিফলন হয়।

আলোর প্রতিফলন দুইরকমের হতে পারে:
(1) নিয়মিত প্রতিফলন (Regular Reflection):
(2) বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন (Diffused Reflection):

নিয়মিত প্রতিফলন (Regular Reflection):
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ কোনও মসৃণ সমতলে আপতিত হলে, ওই রশ্মিগুলির প্রতিফলন, কতকগুলি নিয়ম মেনে চলে এবং প্রতিফলিত রশ্মিগুলি সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ রূপে একটি নির্দিষ্ট দিকে চলে যায়। আলোর এই রকম প্রতিফলনকে নিয়মিত প্রতিফলন বলে।
নিয়মিত প্রতিফলনে প্রতিফলিত রশ্মিগুচ্ছ আপতিত রশ্মিগুচ্ছের মতোই হয়। আয়না, মসৃণ ধাতব তল, স্থির জলের উপরিতল ইত্যাদি থেকে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।
এই নিয়মিত প্রতিফলনে অধিকাংশ আলো আমাদের চোখে এসে পড়ে, তাই প্রতিফলকটিকে খুব উজ্জ্বল দেখায়।

আলোর নিয়মিত প্রতিফলন

বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন (Defused Reflection):
সমান্তরাল আলোকরশ্মি গুচ্ছ কোনও অমসৃণ তলে আপতিত হলে, ওই রশ্মিগুচ্ছের প্রতিটি রশ্মি প্রতিফলনের নিয়ম মেনে চললেও, অমসৃণ তল থেকে প্রতিফলিত রশ্মিগুলি সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ রূপে একটি নির্দিষ্ট দিকে না গিয়ে চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। এইরকম প্রতিফলনকে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন বলে।
এখানে যেহেতু প্রতিফলক তলটি অমসৃণ, তাই অমসৃণ তলের বিভিন্ন বিন্দুতে অভিলম্বগুলি বিভিন্ন দিকে হয়, তাই প্রতিফলিত রশ্মিগুলি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
যেমন, খসখসে কাগজ, বাড়ির দেওয়াল, ঘষা কাচ, সিনেমার পর্দা, গাছপালা ইত্যাদি প্রতিফলক থেকে আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয়।

আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন

দর্পণে আলো পড়লে দর্পণটি চক্‌চক্‌ করে কিন্তু ঘরের দেওয়াল চক্‌চক্‌ করে না কেন?
দর্পণের তলটি খুব মসৃণ এবং চকচকে। তাই দর্পণের ওপর আলোক রশ্মি পড়লে রশ্মিগুলির নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে, ফলে উৎস থেকে আগত আলোক রশ্মিগুচ্ছের বেশিরভাগই দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে নির্দিষ্ট পথে আমাদের চোখে এসে পড়ে। ফলে দর্পণের যে অংশে প্রতিফলন ঘটে সেই অংশটিকে খুব চকচকে দেখায়।
কিন্তু ঘরের দেওয়াল অমসৃণ এবং খসখসে। তাই দেওয়ালে আলো পড়লে রশ্মিগুলির বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে। বিক্ষিপ্ত প্রতিফলিত রশ্মির সামান্য অংশ আমাদের চোখে এসে পড়ে, তাই দেওয়ালকে চকচকে দেখায় না। দেওয়ালটিকে আমরা দেখতে পাই। এছাড়া বিক্ষিপ্ত রশ্মিগুলি দেওয়ালের তল থেকে চারিদিকে ছড়িয়ে যায় বলে, যে কোনো দিক থেকেই দেওয়ালটিকে দেখতে পাওয়া যায়।

সিনেমার পর্দা সাদা ও অমসৃণ করা হয় কেন?
সিনেমার পর্দা অমসৃণ করা হলে ওর ওপর আপতিত আলোক রশ্মির বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে। পর্দা থেকে বিক্ষিপ্ত আলোক রশ্মি গুলি হলের চারিদিকে ছড়িয়ে যায় এবং প্রতিটি দর্শকের চোখে পড়ে।

পর্দাটি মসৃণ ও চকচকে হলে, পর্দা থেকে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন হতো। ফলে পর্দায় আলোক রশ্মি প্রতিফলিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট দিকে চলে যেত। এবং ওই রশ্মিগুলি যাদের চোখে পড়তো তারা শুধু পর্দাকে চকচকে ও উজ্জ্বল দেখতো আর অন্যান্য দর্শক পর্দায় কোনও ছবিই দেখতে পেতো না।

সিনেমার পর্দাটি সাদা রঙের করা হয় কারণ, সাদা বস্তু মোটামুটি কোনো বর্ণের আলোক রশ্মি শোষণ না করে প্রতিফলিত করে দেয়, তাই সিনেমার পর্দায় ছবির ঔজ্জ্বল্য কমে না এবং রঙের কোনও পরিবর্তন হয় না।

সিনেমার পর্দাটি কালো রঙের করা হলে ওর ওপর আলোক রশ্মি পড়ে তা প্রতিফলিত না করে শোষিত হয়ে যেত। কারণ কালো রঙ সব রঙকে শোষণ করে নেয়। তাই পর্দা থেকে কোনও রশ্মি প্রতিফলিত হতো না, ফলে ছবি দেখা যেত না।

ঘষা কাচ অমসৃণ কিন্তু জলে ডোবালে তা মসৃণ মনে হয় কেন?
ঘষাকাচ অমসৃণ হওয়ায় এতে আলোকরশ্মির বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয়। তাই একে অস্বচ্ছ দেখায়। এখন জলে ভেজালে এই ঘষা কাচের ওপর স্বচ্ছ জলের একটি পাতলা আস্তরণ পড়ে, ফলে অমসৃণ তলটি মোটামুটি মসৃণ হয়ে যায়। এর ফলে এখন ওর ওপর আলোক রশ্মি পড়লে কিছু অংশ ভেতরে প্রবেশ করে আর কিছু অংশের নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে। প্রথমটির জন্যে একে স্বচ্ছ দেখায় ও নিয়মিত প্রতিফলনের জন্যে ওকে চকচকে দেখায়।

উষা ও গোধূলি:
সূর্যোদয়ের কিছুক্ষন আগে এবং সূর্যাস্তের পরেও ভ-পৃষ্ঠ কিছুক্ষণ অল্প আলোকিত থাকে। একেই উষা ও গোধূলি বলে।
আসলে সূর্যোদয়ের আগে, সূর্যের রশ্মি আমাদের কাছে পৌঁছায় না, কিন্তু ধূলিকণাগুলি উপরে থাকায় ওদের ওপর সূর্যরশ্মির বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয় এবং সেই বিক্ষিপ্ত রশ্মিগুলি চারিদিকে ছড়িয়ে যায় ও ভূ-পৃষ্ঠে এসে পৌঁছায়। একে উষা বলে।
অনুরূপে সূর্যাস্তের পরও, সূর্যের রশ্মি আমাদের কাছে সরাসরি পৌঁছায় না। কিন্তু ওপরের বায়ুমন্ডলের ধূলিকণাগুলি দ্বারা ওই সূর্যরশ্মির বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয় এবং সেই বিক্ষিপ্ত রশ্মিগুলি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে ও ভূ-পৃষ্ঠে এসে পৌঁছায়। তাই সূর্য অস্ত যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ ভূ-পৃষ্ঠ আলোকিত থাকে। একে গোধূলি বলে।

নিয়মিত প্রতিফলন বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন
(1) নিয়মিত প্রতিফলনের ক্ষেত্রে প্রতিফলককে ঘুরিয়ে প্রতিফলিত রশ্মিগুচ্ছকে ইচ্ছামতো যে কোনও স্থানে ফেলা যায়। (1) বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের ক্ষেত্রে প্রতিফলককে ঘুরিয়ে প্রতিফলিত রশ্মিগুলিকে ইচ্ছামতো যে কোনও গায়গায় ফেলা যায় না।
(2) মসৃণ তলে নিয়মিত প্রতিফলন হয়। (2) অমসৃণ প্রতিফলকে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয়।
(3) নিয়মিত প্রতিফলনে প্রতিফলক প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। বস্তু থেকে প্রতিফলকের দূরত্ব = প্রতিফলক থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব হয়। (3) বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনে প্রতিফলক প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে না, শুধুমাত্র প্রতিফলকটিকেই দেখা যায়।
(4) বেশীরভাগ প্রতিফলিত রশ্মি নির্দিষ্ট অভিমুখে এসে আমাদের চোখে পড়ে, তাই প্রতিফলককে খুব চকচকে দেখায়। (4) প্রতিফলিত রশ্মিগুলি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খুব সামান্য অংশ আমাদের চোখে এসে পড়ে। তাই প্রতিফলক তলটি চকচক করে না।
(5) নিয়মিত প্রতিফলনে প্রতিফলিত রশ্মি একটি নির্দিষ্ট অংশেই সীমাবদ্ধ থাকে। (5) বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনে প্রতিফলিত রশ্মিগুলি কোনও নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ না থেকে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
(6) নিয়মিত প্রতিফলনে প্রতিফলিত রশ্মিগুচ্ছ, আপতিত রশ্মিগুচ্ছের মতোই হয়। যেমন সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ মসৃণ তলে আপতিত হয়ে সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ রূপেই প্রতিফলিত হয়। (6) বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনে আপতিত এবং প্রতিফলিত আলোক রশ্মিগুচ্ছের মধ্যে কোনও সাদৃশ্য থাকে না। সমান্তরাল আলোক রশ্মিগুচ্ছ অমসৃণ তলে প্রতিফলিত হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।


প্রতিফলনের সূত্র:
(1) আপতিত আলোকরশ্মি, প্রতিফলিত আলোকরশ্মি আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব সর্বদা একই সমতলে অবস্থান করে।
(2) আপতন কোণ সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান হয়।


অর্থাৎ আপতিত রশ্মি AO, প্রতিফলিত রশ্মি OB, আপতন বিন্দু O তে অঙ্কিত PQ প্রতিফলক তলের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব ON একই সমতলে অবস্থান করবে।
এবং আপতন কোণ \(\angle AON = \) প্রতিফলন কোণ \(\angle BON\)
বা, \(i = r\)

আলোর প্রতিসরণ (Refraction of Light):
আলোক রশ্মি কোনও স্বচ্ছ ও সমসত্ত্ব মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে যদি তির্যকভাবে অন্য কোনো স্বচ্ছ ও সমসত্ত্ব মাধ্যমের প্রবেশ করে, তখন দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে আলোকরশ্মি দিক পরিবর্তন করে দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে। আলোকরশ্মির গতিপথের এইরকম পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
ধরাযাক, বায়ু ও কাচ মাধ্যমের বিভেদতল PQ। এখানে AO আলোকরশ্মি বায়ু মাধ্যম থেকে PQ দুই মাধ্যমের বিভেদতলের O বিন্দুতে আপতিত হয়ে প্রতিসরণের পর OB পথে কাচ মাধ্যমে প্রবেশ করে। এখন O বিন্দুতে PQ বিভেদতলের উপর \({N_1}O{N_2}\) লম্ব টানা হল। এই প্রতিসরণের সাপেক্ষে
আলোর প্রতিসরণ

AO হল আপতিত রশ্মি
OB হল প্রতিসৃত রশ্মি
O হল আপতন বিন্দু
PQ হল দুই মাধ্যমের বিভেদতল, একে প্রতিসারক তল বলে।
\({N_1}O{N_2}\) হল অভিলম্ব
আপতিত রশ্মি AO অভিলম্ব \({N_1}O\) এর সঙ্গে যে কোণ উৎপন্ন করে, তাকে আপতন কোণ বলে। এখানে \(\angle AO{N_1}\) কোণ হল আপতন কোণ। একে \(i\) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
প্রতিসৃত রশ্মি OB অভিলম্ব \({N_2}O\) এর সঙ্গে যে কোণ উৎপন্ন করে, তাকে প্রতিসরণ কোণ বলে। এখানে \(\angle BO{N_1}\) কোণ হল প্রতিসরণ কোণ। একে \(r\) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।


লঘু থেকে ঘন মাধ্যমে আলোকের প্রতিসরণ:
আলোক রশ্মি লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করলে প্রতিসৃত রশ্মিটি আপতন বিন্দুতে অভিলম্বের দিকে সরে আসে। ফলে আপতন কোণের মান \(i\) প্রতিসরণ কোণের মান \(r\) অপেক্ষা বেশি হয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে \(i > r\) হয়।

লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে আলোর প্রতিসরণ

ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে আলোকের প্রতিসরণ:
আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রবেশ করলে প্রতিসৃত রশ্মিটি আপতন বিন্দুতে অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। ফলে আপতন কোণের মান \(i\), প্রতিসরণ কোণের মান \(r\) অপেক্ষা কম হয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে \(i < r\) হয়।

ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে আলোর প্রতিসরণ

আলোকরশ্মির লম্ব আপতনে প্রতিসরণ: কোনও আলোকরশ্মি দুই মাধ্যমের বিভেদতলে লম্বভাবে আপতিত হলে আলোকরশ্মির কোনও প্রতিসরণ ঘটবে না। কারণ আলোকরশ্মি লঘু মাধ্যম থেকে ঘম মাধ্যমে বা ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রতিসৃত হওয়ার সময় যদি দুই মাধ্যমের বিভেদতলের উপর লম্বভাবে আপতিত হয় সেক্ষেত্রে ওই রশ্মি কোনোরকম চ্যুতি না ঘটিয়ে প্রথম মাধ্যম থেকে সরাসরি দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে \(i = r = 0^\circ \)

আবার বিভিন্ন বর্ণের আলোকরশ্মি একই আপতন কোণে আপতিত হলে, বিভিন্ন বর্ণের রশ্মিগুলি বিভিন্ন কোণে প্রতিসৃত হয়। অর্থাৎ প্রতিসরণ কোণ আলাদা আলাদা হবে। যেমন, লাল আলোর ক্ষেত্রে প্রতিসরণ কোণের মান, হলুদ বা বেগুনী আলোর ক্ষেত্রে প্রতিসরণ কোণের মানের চেয়ে বেশী হয়।

প্রতিসরণের সূত্র:
(i) আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে প্রতিসারক তলের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব সর্বদা একই সমতলে অবস্থান করে।
অর্থাৎ আপতিত রশ্মি AO, প্রতিসৃ রশ্মি OB, আপতন বিন্দু O তে PQ প্রতিসারক তলের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব \({N_1}O{N_2}\) একই সমতলে অবস্থান করে।

(2) দুটি নির্দিষ্ট মাধ্যম ও একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর ক্ষেত্রে আপতন কোণের সাইন (Sin) এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের (Sin) অনুপাত সর্বদা ধ্রুবক হয়।
এই ধ্রুবককে প্রথম মাধ্যমের সাপেক্ষে দ্বিতীয় মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক বলে। একে μ অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
অর্থাৎ \(\frac{{\sin i}}{{\sin r}} = \frac{{\sin \angle AO{N_1}}}{{\sin \angle BO{N_2}}} = \mu \) (ধ্রুবক)
এই ধ্রুবক রাশিটিকে প্রথম মাধ্যমের সাপেক্ষে দ্বিতীয় মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক বলে।

প্রতিসরনের সূত্র

বায়ু সাপেক্ষে কাঁচের প্রতিসরাঙ্ক 1.5 কথাটির অর্থ কি?
বায়ু সাপেক্ষে কাঁচের প্রতিসরাঙ্ক 1.5 কথাটির অর্থ হল হলুদ বর্ণের আলোক রশ্মি বায়ু মাধ্যম থেকে কাচ মাধ্যমে প্রতিসৃত হলে, বায়ুমাধ্যমে আপতন কোণের সাইন (Sin) এবং কাঁচ মাধ্যমে প্রতিসরণ কোণের সাইনের (Sin) এর অণুপাত 1.5 হবে।

গ্লিসারিনের মধ্যে কাঁচদন্ড ডোবালে, কাঁচদন্ডটিকে দেখা যায় না কেন?
গ্লিসারিন ও কাঁচের প্রতিসরাঙ্ক প্রায় সমান। এখন গ্লিসারিনের মধ্যে কাঁচদন্ডকে ডোবালে দুটি মাধ্যেমেরই প্রতিসরাঙ্ক একই হওয়ায় এদের মধ্যে আলাদা ভাবে কোনো প্রতিফলন বা প্রতিসরণ হয় না। একমাধ্যম বলেই মনে হয়। তাই কাঁচদন্ডটিকে আর দেখা যায় না।

আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণ ভালোভাবে বুঝতে নীচের মডেলটি ব্যবহার করো।


প্রতিবিম্ব (Image):
কোনও বিন্দু উৎস থেকে আগত অপসারী আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হয়ে যদি অন্য কোনও বিন্দুতে মিলিত হয় বা অন্য কোনও বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তখন ওই দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দু উৎসের প্রতিবিম্ব বলে।

প্রতিবিম্ব দুইরকম:
(1) সদ্‌বিম্ব (Real Image):
(2) অসদ্‌বিম্ব (Virtual Image):

সদ্‌ প্রতিবিম্ব (Real Image):
কোনও বিন্দু উৎস থেকে আগত অপসারী আলোক রশ্মিগুচ্ছ, প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হওয়ার পর, যদি সত্যি সত্যি কোনও বিন্দুতে মিলিত হয়ে যে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে, তাকে প্রথম বিন্দুর সদ্‌বিম্ব বলে।
লেন্সে সদ্‌ প্রতিবিম্ব গঠন

যেমন, \({L_1}{L_2}\) উত্তল লেন্সের সামনে PQ একটি বস্তু। এখন P থেকে নির্গত আলোকরশ্মি PA উত্তল লেন্সের A বিন্দুতে আপতিত হয়ে AB পথে প্রতিসৃত হয়। এবং অপর একটি রশ্মি PO উত্তল লেন্সের O বিন্দুর মধ্য দিয়ে গিয়ে OC পথে প্রতিসৃত হয়। এই AB এবং OC প্রতিসৃত রশ্মিদুটি যথাক্রমে \({P_1}\) বিন্দুতে মিলিত হয়। এখানে \({P_1}\) বিন্দু হল P বিন্দুর সদ্‌ প্রতিবিম্ব।
সিনেমার পর্দায় বা ক্যামেরায় যে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় তা সদ্‌ প্রতিবিম্ব।

অসদ্‌ প্রতিবিম্ব (Virtual Image):
কোনও বিন্দু উৎস থেকে আগত অপসারী আলোকরশ্মিগুচ্ছ, প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হওয়ার পর, যদি কোনও বিন্দুতে মিলিত না হয়ে কোনও বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তখন ওই বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর অসদ্‌বিম্ব বলে।
যেমন, \({M_1}{M_2}\) দর্পণের সামনে P একটি বিন্দু উৎস। এই P বিন্দু থেকে নির্গত একটি আলোকরশ্মি, দর্পণের ওপর লম্বভাবে আপতিত হয়ে, দর্পণ থেকে পুনরায় লম্বভাবেই প্রতিফলিত হয়। অপর একটি আলোকরশ্মি PO দর্পণের O বিন্দুতে আপতিত হয়ে OQ পথে প্রতিফলিত হয়। এই প্রতিফলিত রশ্মিদুটিকে পিছনের দিকে বাড়ালে তারা যথাক্রমে \({P_1}\) বিন্দুতে মিলিত হয়। এখানে এই \({P_1}\) বিন্দু হল P বিন্দুর একটি অসদ্‌ প্রতিবিম্ব।
সমতল র্পণে অসদ্‌ প্রতিবিম্ব গঠন

(i) আয়নায় যে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় তা অসদ্‌ প্রতিবিম্ব।
(ii) পুকুরের জলে, নারিকেল গাছের যে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, তা অসদ্‌ প্রতিবিম্ব।
(iii) জোৎস্না রাতে দীঘির স্থির জলে চাঁদের যে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, তা অসদ্‌ প্রতিবিম্ব।
(iv) মরুভূমিতে যে মরীচিকা দেখা যায় তা হল অসদ্‌ প্রতিবিম্ব।

সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব:
ধরাযাক, \({M_1}{M_2}\) একটি সমতল দর্পণের সামনে P একটি বিন্দু উৎস। এই P বিন্দু থেকে নির্গত একটি আলোকরশ্মি PR, দর্পণের ওপর লম্বভাবে R বিন্দুতে আপতিত হয়ে, দর্পণ থেকে পুনরায় লম্বভাবেই RP প্রতিফলিত হয়। অপর একটি আলোকরশ্মি PO দর্পণের O বিন্দুতে আপতিত হয়ে OQ পথে প্রতিফলিত হয়। এই RP এবং OQ প্রতিফলিত রশ্মিদুটিকে পিছনের দিকে বাড়ালে তারা যথাক্রমে \({P_1}\) বিন্দুতে মিলিত হয়। এখানে এই \({P_1}\) বিন্দু হল P বিন্দুর একটি অসদ্‌ প্রতিবিম্ব।

সমতল দর্পণে বিন্দু উৎসের জন্য প্রতিবিম্ব গঠন

সমতল দর্পণে প্রতিফলন দেখতে Java Simulation টি ডাউনলোড করো।


সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্য:
(1) সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বটি অসদ্‌ হবে।
(2) প্রতিবিম্বের আকার, বস্তুর আকারের সমান হবে।
(3) দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব এবং দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব সর্বদা সমান হবে।
(4) বস্তুটি প্রতিসম না হলে প্রতিবিম্বের পার্শ্বীয় পরিবর্তন হবে।
(5) বস্তুবিন্দু এবং প্রতিবিম্বের সংযোগকারী সরলরেখা, দর্পণের উপর লম্ব হবে।
(6) বস্তুকে স্থির রেখে, কোনো দর্পণকে যদি বস্তুর দিকে আনা হয় অথবা বস্তু থেকে দূরে সরানো হয়, তাহলে বস্তুটির প্রতিবিম্ব দ্বিগুন দূরত্বে এগিয়ে আসবে বা দ্বিগুন দূরত্বে সরে আসবে।
(7) দর্পণকে স্থির রেখে, কোনও বস্তুকে দর্পণের দিকে বা দর্পণ থেকে দূরে সরালে, তার প্রতিবিম্বটিও সমান দূরত্বে এগিয়ে আসবে বা সমান দূরত্বে সরে যাবে।

পার্শ্বীয় পরিবর্তন (Lateral Inversion):
সমতল দর্পণে সৃষ্ট কোনো বস্তুর সমগ্র প্রতিবিম্বটি বস্তুর সাপেক্ষে পাশাপাশি উল্টে যাওয়ার ঘটনাকে প্রতিবিম্বের পার্শ্বীয় পরিবর্তন বলে।
পার্শ্বীয় পরিবর্তনে বস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকারের কোনো পরিবর্তন হয় না। একই থাকে।

প্রতিবিম্বের পার্শ্বীয় পরিবর্তনের কারণ:
দর্পণ থেকে বস্তুর প্রতিটি বিন্দুর লম্ব দূরত্ব এবং দর্পণ থেকে ওই প্রতিটি বিন্দুর প্রতিবিম্বের লম্ব দূরত্ব সমান হওয়ার জন্যই প্রতিবিম্বের পার্শ্বীয় পরিবর্তন ঘটে থাকে। অর্থাৎ পার্শ্বীয় পরিবর্তনের মূল কারণ হল, দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব এবং দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের লম্ব দূরত্ব সমান হয়। তাই প্রতিবিম্বের পার্শ্বীয় পরিবর্তন ঘটে।

প্রতিসম বস্তু:
A, H, M, O, T, I, W অক্ষরগুলি প্রতিসম হওয়ায় এদের বাম দিক ও ডান দিকের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। তাই এদের ক্ষেত্রে প্রতিবিম্বের পার্শ্বীয় পরিবর্তন হয় না। এদের প্রতিসম অক্ষর বলে।

অপ্রতিসম বস্তু:
B, C, E, F, P, S, N, Z ইত্যাদি অক্ষরগুলি প্রতিসম না হওয়ায় এদের বাম দিক ও ডানদিকের সাথে কোনো মিল থাকে না, তাই এদের প্রতিবিম্বের পার্শ্বীয় পরিবর্তন ঘটে। এদের অপ্রতিসম অক্ষর বলে।

প্রিজম (Prism):
প্রিজম হল একটি সমসত্ত্ব, স্বচ্ছ মাধ্যম যা পাঁচটি তল দিয়ে ঘেরা। ত্রিভূজাকৃতি প্রিজমের তিনটি তল আয়তাকার এবং দুটি তল ত্রিভূজাকার। আলোক রশ্মি প্রিজমের যে তলে আপতিত হয় এবং যে তল থেকে নির্গত হয় তাদের প্রতিসারক তল বলে। প্রতিসারক তলকে লম্বভাবে ছেদ করলে যে তল পাওয়া যায়, তাকে প্রিজমের প্রধান ছেদ বলে। প্রিজমের দুটি প্রতিসারক তল যে কোণে মিলিত হয়, তাকে প্রিজমের প্রতিসারক কোণ বলে।

বিজ্ঞানী নিউটন দেখেন যে, সূর্যের রশ্মি প্রিজমের একটি প্রতিসারক তলে আপতিত করলে, ওই সূর্য রশ্মি সাতটি বিভিন্ন বর্ণের রশ্মিতে বিভক্ত হয়। তাই বলা যায় সাদা আলোক রশ্মি সাতটি বিভিন্ন বর্ণের আলোক রশ্মির মিশ্রণ।
এখন বিভিন্ন বর্ণের আলোক রশ্মির প্রতিসরাঙ্ক আলাদা আলাদা। তাই সাদা আলো প্রিজমের একটি প্রতিসারক তলে আপতিত তলে আপতিত হলে, সাদা আলোর অন্তর্ভুক্ত ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের আলোকরশ্মিগুলি বিভিন্ন কোণে বিচ্যুত হয়। ফলে সাদা আলোক রশ্মি ভেঙে গিয়ে সাতটি মৌলিক বর্ণে পরিণত হয়। এই ঘটনাকে আলোক বিচ্ছুরণ বলে।

আলোক বিচ্ছুরণ (Dispersion of Light):
সাদা আলো বা অন্য কোনো মিশ্র আলো প্রিজমের মতো কোনো প্রতিসারক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের ফলে বিশ্লিষ্ট হয়ে বিভিন্ন বর্ণের আলোতে বিভক্ত হওয়ার ঘটনাকে আলোক বিচ্ছুরণ বলে।
সাদা বর্ণের আলো প্রিজমের মতো প্রতিসারক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের ফলে যে সাতটি বর্ণের আলোতে ভেঙে যায় তা হল –
(1) লাল
(2) কমলা
(3) হলুদ
(4) সবুজ
(5) আকাশী
(6) নীল
(7) বেগুনী

সাদা আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের ফলে ভেঙে গিয়ে সাতটি বিভিন্ন বর্ণের আলোকগুচ্ছে পরিণত হয়। এই আলোকগুচ্ছকে পর্দায় ফেললে যে আলোক পটি পাওয়া যায় তাকে বর্ণালী বলে।
এই বর্ণালীর সবথেকে ওপরে থাকে লাল বর্ণ ও সবশেষে থাকে বেগুনী বর্ণের আলো।

সাদা আলো হল সাতটি বিভিন্ন বর্ণের আলোর মিশ্রন। কাচে বিভিন্ন বর্ণের আলোর গতিবেগ বিভিন্ন। যেমন, বেগুনী বর্ণের আলোর গতিবেগ সবচেয়ে কম এবং লাল বর্ণের আলোর গতিবেগ সবচেয়ে বেশি। তাই প্রত্যেকটি বর্ণের আলোকরশ্মির জন্যে কাচের প্রতিসরাঙ্ক বিভিন্ন হয়।
ফলে সাদা আলো প্রিজমে পড়লে প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা বর্ণের বর্ণের আলোক রশ্মির জন্যে প্রতিসরণ কোণ আলাদা আলাদা হয়ে যায়। লাল আলোর চ্যুতিকোণ সচেয়ে কম ও বেগুনী বর্ণের আলোক রশ্মির চ্যুতিকোণ সবচেয়ে বেশি হয়।

আকাশের রামধণু (Rainbow):
সাদা আলোর বিচ্ছুরণের প্রাকৃতিক দৃষ্টান্ত হল আকাশের রামধনু।
সাধারণত বৃষ্টির পর আকাশে অনেক জলকণা ভাসমান অবস্থায় থাকে। সূর্যরশ্মির সাদা বর্ণের আলো বৃষ্টির জলের ফোঁটার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিসরণের ফলে সূর্যের সাদা আলোর বিচ্ছুরণ হয়। এখানে আকাশে ভাসমান জলকণাগুলিই প্রিজমের কাজ করে। ফলে আকাশে সাতটি বিভিন্ন বর্ণের আলোক পটি গঠন করে। একেই রামধনু। রামধনুকে সর্বদা সূর্যের বিপরীত দিকের আকাশে দেখতে পাওয়া যায়।

অতিবেগুনী রশ্মি (Ultraviolet Rays):
সূর্য থেকে যে আলো পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, তার মধ্যে কিছু অদৃশ্য আলোক থাকে। এই অদৃশ্য আলোর মধ্যে একটি হল ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মি। একে আলট্রাভায়োলেট রে বলে।

সূর্যের আলোর অতিবেগুনী রশ্মি আমাদের কি কি ক্ষতিসাধন করে?
অতিবেগুনী রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি হল –
(i) জীবন্ত কোশের পক্ষে অতিবেগুনী শ্মি অত্যন্ত ক্ষতিকারক।
(ii) অতিবেগুনী রশ্মি সরাসরি চোখে পড়লে চোখে লেন্সের ক্ষতি হয়।
(iii) এছাড়া চোখের মধ্যে যে আলোক সংবেদী স্তর (রেটিনা) আছেতারও ক্ষতি হয়।
(iv) এই রশ্মি মানুষের শরীরে পড়লে চামড়ায় ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।
(v) এই রশ্মি কোশের DNA অণুর ক্ষতিসাধন করে।

অতিবেগুনী রশ্মির হাত থেকে আমরা কিভাবে বাঁচতে পারি?
পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের উপরের অংশে ওজোন গ্যাসের পুরু আস্তরণ আছে। এই ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনী রশ্মিকে পৃথিবীপৃষ্ঠে আসতে দেয় না, তাই এই ওজোন স্তর অতিবেগুনী রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে জীবকুলকে রক্ষা করে।
কিন্তু বর্তমানে মানুষের কিছু ক্রিয়াকলাপে, সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে ক্ষতিকারক গ্রীন হাউস গ্যাসগুলি বেশি পরিমানে সৃষ্টি হচ্ছে। এই গ্রীন হাউস গ্যাসগুলির মধ্যে ক্লোরো-ফ্লুরো কার্বন, মিথেন, কার্বন ডাই অক্সাইডের ভূমিকা অন্যতম। এই গ্যাসগুলি ব্যাপক পরিমানে সৃষ্টি হওয়ায় এই গ্যাসগুলি ওজোন স্তরকে ছিদ্র করে দিচ্ছে এবং ওজোন স্তর ক্রমশ পাতলা হয়ে আসছে।
এর ফলে এই ছিদ্রপথে ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মি রাসরি ভূ-পৃষ্ঠে এসে পৌঁছাচ্ছে এবং জীবকুলের ক্ষতিসাধন করছে।
এছাড়া সূর্যালোকে আমাদের চামড়ায় মেলোনিন নামে এক প্রকার রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়। এই মেলোনিন অতিবেগুনী রশ্মিকে শোষণ করে চামড়ার নীচের কোশগুলিকে বাঁচিয়ে দেয়। যেখানে সূর্যরশ্মি প্রখর, সেখানকার মানুষের চামড়ায় মেলোনিনের পরিমাণও খুব বেশি থাকে। মেলোনিন বেশি থাকলে চামড়া বাদামী বা কালো হয়। তাই সাদা চামড়ার মানুষদের অতিবেগুনী রশ্মিতে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ায় আলোর ভূমিকা উল্লেখ করো।
উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াগুলি আলোকশক্তি দ্বারা প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন:
(i) অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ন্মানো চারাগাছ গুলি আলো যেদিক থেকে আসে সেই দিকে বেঁকে যায়।
(ii) আলো ছাড়া উদ্ভিদ খাদ্য তৈরী করতে পারে না। মাটি থেকে শিকড়ের সাহায্যে জল নিয়ে উদ্ভিদ সবুজ অংশে আলোক শক্তি শোষণ করে তাকে খাদ্যশক্তিতে পরিণত করে। পরে ওই খাদ্য ভেঙে পাওয়া শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভিদ বিভিন্ন জৈবিক কাজকর্ম সম্পাদন করে।
(iii) অন্ধকারে উদ্ভিদ বেশিদিন বাঁচে না। ইটের নীচে চাপা পড়া ঘাসে ক্লোরোফিল উৎপন্ন না হওয়ায় ঘাসগুলোর রং পরিবর্তিত হয় এবং শেষে মারা যায়।
(iv) গম, ভুট্টা, মূলো ইত্যাদি গাছে দিনের দৈর্ঘ্য 12 ঘন্টার বেশি হলে ফুল ফোটে আবার চন্দ্রমল্লিকা, আখ, আলু ইত্যাদি গাছে দিনের দৈর্ঘ্য 12 ঘন্টার কম হলে ফুল ফোটে।
(v) আলোর জন্যে বিভিন্ন দেশে শীতকালে ও গ্রীষ্মকালে ভিন্ন ভিন্ন ফুল ফোটে।
(vi) আলো কম পেলে স্যামন মাছের বাচ্চারা মরে যায়।
(vii) সূর্যের আলো কম পেলে গিরগিটি, সাপ ও আরও অনেক প্রাণী শীতঘুমে চলে যায়।
(viii) গুহাবাসী অনেক প্রাণীকে সূর্যালোকে আনলে তাদের চামড়ায় রঙিন পদার্থ তৈরি হয়।
(ix) সূর্য মেঘের আড়ালে থাকলে পঙ্গপালের চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়।
(x) কোনো কোনো প্রাণীর খোলস ত্যাগ বা চামড়ার নীচে ফ্যাট জমা হওয়ার প্রক্রিয়ায় আলোর ভূমিকা অপরিসীম।
(xi) পরিযায়ী পাখিদের তীব্র শীতের জায়গা থেকে অপেক্ষাকৃত গরম জায়গায় উড়ে যাওয়া সূর্যের আলোর তীব্রতার ওপর নির্ভর করে।


এক্স রশ্মি কি?
এক্স রশ্মি একপ্রকার অদৃশ্য আলো যা চামড়া ও মাংস ভেদ করে চলে পারে কিন্তু হাড় ভেদ করে যেতে পারে না।

এক্স রশ্মির উপকারিতা লেখো:
আমাদের শরীরে কোনো হাড় ভেঙে গেলে বা বিভিন্ন অংশ ক্ষয়ে গেলে এই এক্স রশ্মির সাহায্যে তার পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরা যায়। যার সাহায্যে চিকিৎসা করার সুবিধা হয়।

এক্সরশ্মির ক্ষতিকারক দিক:
(i) এক্সরশ্মি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ক্যানসার সৃষ্টি হয়।
(ii) এক্সরশ্মি গর্ভস্থ শিশুর খুব ক্ষতিসাধন করে।